হিন্দু বা সনাতন ধর্মে পিতা-মাতার মৃত্যুর পর যেসব কাজ ভুলেও করা যবে না।


    সনাতন বা হিন্দু ধর্মে পিতা-মাতার মৃত্যুর পর অশৌচ চলাকালীন (সাধারণত ১০ থেকে ৩০ দিন, বর্ণভেদে ভিন্ন হয়) শাস্ত্রীয় কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই সময়ে ভুল কিছু করলে বিদেহী আত্মার শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।

পিতা-মাতার মৃত্যুর পর যেসব কাজ ভুলেও করা উচিত নয়, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. আমিষ ও ভাজা খাবার গ্রহণ

    অশৌচ চলাকালীন মাছ, মাংস, ডিম বা কোনো প্রকার আমিষ খাবার গ্রহণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি এই সময়ে অতিরিক্ত তেল-মসলা বা কড়াইয়ে ভাজা কোনো খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত। সাধারণত এই দিনগুলোতে আতপ চালের হবিষ্যান্ন গ্রহণ করার বিধান রয়েছে।

২. নতুন পোশাক ও প্রসাধন বর্জন

    এই শোকের সময়ে নতুন পোশাক পরা, চুল বা দাড়ি কাটা, নখ কাটা এবং সাবান-তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। বিলাসিতা বা সাজগোজ পরিহার করে সাধারণ জীবনযাপন করতে হয়।

৩. ব্রহ্মচর্য পালন

    পিতা-মাতার মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত পূর্ণ ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়। এই সময়ে সাংসারিক বা শারীরিক ভোগ-বিলাস থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। এটি শোক পালনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৪. শুভ কাজে অংশগ্রহণ

    অশৌচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান (যেমন: বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা জন্মদিন) আয়োজন করা বা অন্য কারো শুভ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া শাস্ত্রসম্মত নয়। এমনকি এই সময়ে মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়া বা বিগ্রহ স্পর্শ করাও নিষেধ।


৫. গীতাপাঠ ও ধর্মীয় আচরণের অবহেলা

    মনে করা হয়, মৃত্যুর পর পরবর্তী ১৩ দিন আত্মার যাত্রাপথ নির্ধারিত হয়। তাই এই সময়ে ঘরে ঝগড়া-বিবাদ করা বা উচ্চস্বরে আনন্দ করা উচিত নয়। এর পরিবর্তে নিয়মিত গীতা পাঠ, গরুড় পুরাণ শ্রবণ এবং পরোপকার করা উচিত যা বিদেহী আত্মার সদগতিতে সহায়তা করে।

৬. দান-ধ্যানে অনীহা

    শ্রাদ্ধ শান্তি বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগে কোনো দান বা শ্রাদ্ধের সামগ্রী নিয়ে কার্পণ্য করা উচিত নয়। সাধ্যমতো ব্রাহ্মণ ভোজন ও দরিদ্রদের অন্নদান করাকে পরম ধর্ম মনে করা হয়।

৭. জুতো বা চামড়াজাত দ্রব্য ব্যবহার

    অশৌচ চলাকালীন অনেক পরিবারে জুতো পরা বা চামড়ার বেল্ট-মানিব্যাগ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলা হয়। বিশেষ করে ধর্মীয় কাজের সময় খড়ম বা কাপড়ের জুতো ব্যবহারের রীতি প্রচলিত।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্থান, কাল ও পারিবারিক প্রথা ভেদে এই নিয়মগুলোর কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। আপনার পারিবারিক পুরোহিতের সাথে পরামর্শ করে সঠিক আচারগুলো জেনে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

 

 

বিস্তারিত 

বিস্তারিত ২ 

বিস্তারিত ৩ 

বিস্তারিত ৪ 

বিস্তারিত ৫ 

বিস্তারিত ৬ 

বিস্তারিত ৭ 

বিস্তারিত ৮ 

বিস্তারিত ৯ 

বিস্তারিত ১০ 

 

No comments

Powered by Blogger.