উৎপন্না একাদশী সম্পর্কে জানুন।
এটি
একটি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ একাদশী,
কারণ এই
তিথিতেই 'একাদশী
দেবী'-এর
উৎপত্তি হয়েছিল।
🧘 উৎপন্না একাদশী ২০২৫: তারিখ, মাহাত্ম্য ও পারণের সময়
হিন্দু পঞ্জিকা
অনুসারে, মার্গশীর্ষ
(অগ্রহায়ণ) মাসের
কৃষ্ণপক্ষের একাদশী
তিথিকে উৎপন্না একাদশী বলা
হয়। এই
দিনটি ভগবান
বিষ্ণুর ভক্তদের
জন্য অত্যন্ত
মাহাত্ম্যপূর্ণ।
📅 ২০২৫ সালের তারিখ ও সময়
একাদশী ব্রতের দিন: ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ (শনিবার) (উদয়া তিথি অনুসারে)
একাদশী তিথি শুরু: ১৫
নভেম্বর, ২০২৫,
রাত ১২:৪৯ মিনিটে।
একাদশী তিথি শেষ: ১৬
নভেম্বর, ২০২৫,
রাত ০২:৩৭ মিনিটে।
🪷 পারণের সময় (ব্রত ভাঙার সময়)
পারনের দিন: ১৬
নভেম্বর, ২০২৫
(রবিবার)
পারনের সময়: দুপুর ০১:১০ মিনিট থেকে দুপুর ০৩:১৮ মিনিটের মধ্যে।
দ্রষ্টব্য: পারণের দিন হরি বাসর শেষ হবে সকাল ০৯:০৯ মিনিটে।
🙏 উৎপন্না একাদশীর মাহাত্ম্য ও ব্রতকথা
"উৎপন্না" শব্দের অর্থ
"উৎপত্তি" বা "জন্ম"। পৌরাণিক কাহিনি
অনুসারে, এই
দিনেই একাদশী
দেবীর জন্ম
হয়েছিল।
সংক্ষিপ্ত ব্রতকথা:
সত্যযুগে 'মুর'
নামক এক
ভয়ঙ্কর অসুর
ছিল। সে
তার শক্তিতে
দেবলোক দখল
করে নেয়
এবং ইন্দ্র-সহ সকল দেবতাকে
বিতাড়িত করে।
দেবতারা ভগবান
মহাদেবের কাছে
গেলে, তিনি
ভগবান বিষ্ণুর
শরণাপন্ন হতে
বলেন।
দেবতাদের প্রার্থনায়
ভগবান বিষ্ণু
মুরের সাথে
সহস্র বছর
ধরে যুদ্ধ
করেন। এক
পর্যায়ে ক্লান্ত
হয়ে তিনি
বদরিকাশ্রমের হৈমবতী
গুহায় বিশ্রাম
নিতে যান।
অসুর মুর
ভগবানকে নিদ্রিত
অবস্থায় হত্যা
করতে উদ্যত
হলে, সেই
মুহূর্তে ভগবান
বিষ্ণুর শরীর
থেকে এক
দিব্য কান্তি
সম্পন্ন দেবীর
উৎপত্তি হয়।
এই দেবী
মুরের সাথে
যুদ্ধ করে
তাকে বধ
করেন।
ভগবান বিষ্ণু
জাগ্রত হয়ে
সেই দেবীকে
দেখে प्रसन्न
হন। যেহেতু
তিনি একাদশী
তিথিতে আবির্ভূতা
হয়েছিলেন, তাই
ভগবান বিষ্ণু
তাঁর নাম
রাখেন 'একাদশী' এবং
তাকে বর
দেন যে,
"আজ থেকে
যে ব্যক্তি
এই তিথিতে
উপবাস করে
তোমার ও
আমার পূজা
করবে, সে
সকল পাপ
থেকে মুক্ত
হয়ে মোক্ষ
লাভ করবে।"
এই কারণেই
উৎপন্না একাদশীকে
সকল একাদশীর
মধ্যে প্রথম
এবং শ্রেষ্ঠ
বলে মনে
করা হয়।
যারা সারা
বছর একাদশীর
ব্রত পালন
করতে চান,
তাদের জন্য
এই দিনটি
ব্রত শুরু
করার সর্বোত্তম
দিন।
🌿 ব্রত পালনের কিছু নিয়ম
উপবাস: এই
দিনে ভক্তরা
সম্পূর্ণ উপবাস
(অনেক সময়
নির্জলা) পালন
করেন।
পূজা: ভগবান
শ্রীবিষ্ণু এবং
মা লক্ষ্মীর
পূজা করা
হয়।
তুলসী: এই
দিনে তুলসী
গাছে জল
দেওয়া বা
পাতা ছেঁড়া
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পূজার জন্য
আগের দিনই
তুলসী পাতা
সংগ্রহ করে
রাখা উচিত।
পারণ: ব্রতের
পরের দিন,
অর্থাৎ দ্বাদশী
তিথিতে, সঠিক
পারণ সময়ের
মধ্যে ব্রত
ভঙ্গ করা
বাধ্যতামূলক। পারণের
আগে ব্রাহ্মণ
বা কোনো
অভাবী ব্যক্তিকে
অন্ন দান
করা শুভ
বলে মনে
করা হয়।
উৎপন্না একাদশী (উৎপত্তি একাদশী নামেও পরিচিত) হিন্দু ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন একাদশী ব্রত। এটি কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের একাদশ তিথিতে পালিত হয়। নিচে উৎপন্না একাদশী সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
⭐ উৎপন্না একাদশী কী?
উৎপন্না একাদশী হল সেই তিথি যেদিন একাদশী দেবী (যাকে “একাদশী শক্তি” বলা হয়) অসুর সংহার ও ধর্ম রক্ষার জন্য জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। তাই এটিকে একাদশীর জন্মদিন হিসেবেও দেখা হয়।
⭐ কেন উৎপন্না একাদশী পালন করা হয়?
এই একাদশীর মূল উদ্দেশ্য—
পাপমোচন
আত্মশুদ্ধি
ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভ
সংসারিক দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি
আধ্যাত্মিক উন্নতি
শাস্ত্রে বলা
হয়েছে: উৎপন্না
একাদশীর উপবাসে
পূর্বের বহু
জন্মের পাপ
নাশ হয়
এবং জীবনে
শান্তি আসে।
⭐ উৎপন্না একাদশীর পেছনের পুরাণকথা
পদ্মপুরাণ অনুযায়ী—
মুরু নামে এক ভয়ংকর অসুর দেবতা ও মানুষকে নিপীড়িত করছিল।
ভগবান বিষ্ণু মুরু-অসুরের সঙ্গে যুদ্ধে খুব ক্লান্ত হয়ে একটি গুহায় বিশ্রাম নেন।
তখন মুরু সুযোগ পেয়ে আক্রমণ করতে গেলে ভগবানের দেহ থেকে এক অদ্বিতীয় দিব্যশক্তি প্রকাশ পায়।
এই শক্তিই “একাদশী দেবী” — যিনি মুরু-অসুরকে বধ করেন।
বিষ্ণু দেবীকে আশীর্বাদ দিয়ে বলেন যে ভবিষ্যতে প্রতিটি মাসের শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের একাদশীতে মানুষ তাকে উপবাস ও পূজা করবে, আর তিনি তাদের রক্ষা করবেন।
এই দিব্যশক্তির আবির্ভাব-দিবসই উৎপন্না একাদশী।
⭐ উৎপন্না একাদশীর পালনের নিয়ম
🌿 উপবাসের নিয়ম
একাদশীর আগের রাতে নিরামিষ ও সত্ত্বিক খাবার গ্রহণ
একাদশী দিনে সারাদিন উপবাস
কেউ কেউ নির্জলা উপবাস (জলও না খেয়ে), আবার কেউ ফলাহার করেন
🌿 যে কাজগুলো করা উচিত
ভগবান বিষ্ণু, লক্ষ্মী ও একাদশী দেবীর পূজা
তিল ও ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো
গীতাপাঠ বা বিষ্ণু সহস্রনাম জপ
দান-ধ্যান ও সৎসঙ্গ
🌿 যে কাজগুলো এড়ানো উচিত
শস্যজাত খাবার
পেঁয়াজ-রসুন
নেশাজাত দ্রব্য
মিথ্যা বলা, ঝগড়া, নিন্দা
⭐ উৎপন্না একাদশীর উপকারিতা (ধর্মগ্রন্থ মতে)
পাপমোচন ও মানসিক প্রশান্তি
শরীর-মন পরিশুদ্ধতা
সংসারের অশান্তি ও বাধা দূর
আর্থিক উন্নতি ও শান্তি
পরিবারে শুভ ফল লাভ
আধ্যাত্মিক উন্নতি ও ভগবানের কৃপা
⭐ কারা এই ব্রত করতে পারেন?
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ব্রত পালন করতে পারেন। বিশেষত—
সংসারিক শান্তি
সন্তানসুখ
রোগমুক্তি
মানসিক শান্তি
পাপমোচন
ইত্যাদি কামনাকারীরা
এই ব্রত
পালন করেন।
চাইলে আমি আপনাকে বলতে পারি—
উৎপন্না একাদশীর নির্দিষ্ট পূজা-পদ্ধতি
কোন মন্ত্র জপ করবেন
এ বছরের তারিখ ও পালনকাল
সকালে-বিকালে করণীয়
আপনি কোনটি
জানতে চান?
No comments