‌"কোরবান পু‌রে" সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে

  কুমিল্লার মুরাদনগরে ফেসবুকে গুজব তৈরি করে হিন্দু বাড়িঘর ও মন্দিরে সাম্প্রদায়িক হামলা ও লুটপাট অগ্নিসংযোগ, মিথ্যা অজুহাতে ষড়যন্ত্রমূলক হিন্দু শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের প্রতিবাদে এবং সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে। সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র ও যুব মহাজোটের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক গোপাল বিশ্বাস। আপনারাও জ্ঞাত আছেন যে গত 1-11-2020 তারিখে বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করে একভাগও সাম্প্রদায়িক হামলা করা হয়েছে।  দিনের আলোয় প্রকাশ্য শতশত ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক জনতা স্থানীয় হিন্দু চেয়ারম্যানসহ চার থেকে পাঁচটি হিন্দু বাড়ি ও তিনটি মন্দিরে হামলা ভাঙচুর লুটপাট করেছে, পরে গানপাউডার দিয়ে এসব বাড়ি ও মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হিন্দু নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। 4 ঘন্টা দীর্ঘ তাণ্ডবলীলা চলাকালীন সময়ে  আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোন সাহায্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবারের মতোই হামলার আগে গণজমায়েত করে সেখান থেকে গ্রুপে ভাগ হয়ে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এখানে স্পষ্টতই সক্রিয় ছিল না। সিনেমাটিক স্টাইলে হামলা শেষ হওয়ার পর এখানে ব্যাপক পুলিশ নিরাপত্তা প্রদান ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবারগুলো পরিহাস হিসেবে বিবেচনা করেছে। মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, হিন্দুদের আরাধ্য প্রতিমা পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে। আচ্ছা মন্দিরে হামলা কি বাংলাদেশের ধর্ম অবমাননা নয়? বাংলাদেশ হিন্দু সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করে রাখার জন্য ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা হয়েছে মর্মে গুজব ছড়িয় সাম্প্রদায়িক হামলার ক্ষেত্রে তৈরি করা বর্তমানে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। টার্গেট করা হিন্দু নামে ফেসবুক আইডি তৈরি করে অপ্রীতিকর পোস্ট দিয়েছে এটা ভাইরাল করে নিরীহ হিন্দুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে। অথচ আজ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এর কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং স্পষট‌তেই দেখা যাচ্ছে যে হিন্দু নির্যাতন করার একটা অজুহাত হিসেবে ফেসবুকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে এই ফেসবুকে ধর্ম বনাম মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে রামু পাবনার সাঁথিয়া যশোর অভয়নগর রংপুরের ঠাকুরপাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর ঠাকুরগাঁও এর কার্নাই কুমিল্লার হোমনায় ইত্যাদি এলাকায় আলোচিত ও ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলাসহ সারাদেশে অসংখ্য হামলা হয়েছে। যদিও আজ পর্যন্ত কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হয়নি।বাংলা‌দে‌শে সাম্প্রদা‌য়িক হামলার বিচার না হওয়ার কারণে বারংবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি কারণে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় সামপ্রদায়িক গোষ্ঠীর সফট টার্গেটে পরিণত হয়েছে। তারপ‌রেও আমরা অ‌নে‌কেই এক‌ত্রিত হ‌তে চা‌চ্ছি না! আমরা স্পষ্টভাবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।

  আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে সারাদেশে শিক্ষার্থীসহ সনাতন ধর্মালম্বী জনতা নিজেদের অ‌স্তিত্ব রক্ষায় রাজপথের আন্দোলনে নেমে আসা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। আশা করি সরকার আমাদের সেই পথে ঠেলে দেবে না।





আ‌রো

No comments

Powered by Blogger.